নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়কে প্রকাশ্যে বাবুর্চি খুন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়কের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এক বাবুর্চিকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়কে প্রকাশ্যে বাবুর্চি খুন, পুরোনো বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় সড়কের ওপর প্রকাশ্যে এক বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুরোনো বিরোধ ও শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইনসংলগ্ন সড়কে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন রায়হান মোল্লা (৫০) নামের ওই বাবুর্চি। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রায়হান মোল্লা নগরীর জামতলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি তিন ছেলেকে নিয়ে তল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পরিবার। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।

নিহতের মেজো ছেলে মো. সাব্বির জানান, কয়েক দিন আগে তার বাবা চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় অস্থায়ীভাবে খাবারের একটি দোকান বসানোর চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় রাজ্জাক নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি দোকান বসাতে বাধা দেন এবং চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তার বাবাকে ছুরিকাঘাতও করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাব্বির আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির এলাকায় প্রভাব ও লোকজন বেশি থাকায় পরিবার বিষয়টি আর বাড়াতে চায়নি। বাবাকেও ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর কোনো কথা না বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে পূর্বের সেই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি পূর্ব বিরোধের জেরে হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম আমাদের জানানো হয়েছে। সবকিছু যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয়দের মতে, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালী মহলের সহিংসতার অভিযোগ নতুন করে সামনে আনছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Post a Comment