সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর সরিষা ক্ষেতে মিলল ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নিখোঁজের পরদিন সরিষা ক্ষেত থেকে এক ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর সরিষা ক্ষেতে মিলল ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি সরিষা ক্ষেত থেকে এক ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের চরতারা বাড়িয়া গ্রামের একটি সরিষা ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান এবং দ্রুত থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

নিহত যুবকের নাম হাফিজুল ইসলাম (৩০)। তিনি সলপ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত আনসার আলী মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইটভাটা শ্রমিক ছিলেন এবং স্থানীয় একটি ইটভাটায় কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান, রোববার সন্ধ্যার পর হাফিজুল ইসলাম চা পান করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাত হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, কাজের সূত্রে তিনি ইটভাটায় রাত কাটিয়েছেন। তবে পরদিন দুপুর গড়িয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় স্বজনদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

ওসি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে শরীরের কোথাও আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে হাফিজুলের পরিচিতি ছিল এলাকায়। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। বিশেষ করে নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই মরদেহ পাওয়ায় অনেকের মনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান করা কতটা জরুরি। পাশাপাশি মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত গুজব বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Post a Comment