রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকাই স্বাভাবিক, তবে সেই ভিন্নমত যেন বিভাজন বা সংঘাতের রূপ না নেয়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা যেন কখনোই মতবিভেদে রূপ না নেয়। বরং আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তারেক রহমান বলেন, বিগত শাসনামলে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানে। তার ভাষায়, “আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে, সম্পাদকদের সঙ্গে কী হয়েছে—সবকিছুই আমাদের জানা।” এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই দেশকে আবার ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি যে কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তাই রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও সহিংসতা বা প্রতিশোধপরায়ণতার পথে হাঁটা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তারেক রহমানের মতে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে আলোচনার টেবিলে সমাধান করাই রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই আমাদের এগোতে হবে।”
নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ আজ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা বা গাইডেন্স প্রত্যাশা করে। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যদিও সব প্রত্যাশা পূরণ করা সবসময় সম্ভব নয়, তবুও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা—সবকিছু সামনে রেখে যদি রাজনীতি করা যায়, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় করা সম্ভব। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করলে ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, সংলাপ এবং ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে হলে মতভিন্নতার মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
এই বক্তব্য রাজনীতিতে সহিংসতা পরিহার, আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
