শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত শুনানিতে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দিনে মোট ৭০টি আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে অধিকাংশ প্রার্থীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত এসেছে।
ইসি জানিয়েছে, অপেক্ষমাণ তিনটি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নথি বা তথ্য জমা নেওয়ার পর পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। আপিল গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ৫ জানুয়ারি, যা শেষ হয় ৯ জানুয়ারি।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল শুনানি শুরু হয়। কমিশন জানিয়েছে, এই শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে আপিলগুলোর শুনানি নেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি আবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শুনানি চলবে—রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০, এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি নেওয়া হবে। বাকি আপিলগুলোও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আপিল শুনানি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগততা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মনোনয়ন বাতিল বা বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্তগুলো প্রার্থীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভোটারদের আস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থিতা যাচাই একটি অপরিহার্য ধাপ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন ও বিধি মেনেই প্রতিটি আপিল নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর সুযোগ নেই। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।