ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সাইবার অভিযানের বিকল্প বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সাইবার অভিযান ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির পদক্ষেপ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সাইবার অভিযানের বিকল্প বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ের একাধিক কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এসব বিকল্পের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পের তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সাইবার অভিযান পরিচালনা এবং ইরানি সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণামূলক কার্যক্রম জোরদারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। এ ঘোষণাকে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এরই মধ্যে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতায় ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট এবং মুদ্রার দ্রুত অবমূল্যায়ন দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ‘যুদ্ধের প্রস্তুতিও’ নিয়ে রেখেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে বৈঠকে বসবে। তবে ওই বৈঠকে ট্রাম্প নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানে যদি আরও বিক্ষোভকারী নিহত হয়, তাহলে তার প্রশাসন “খুব শক্তিশালী বিকল্প” বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন, যদিও তিনি ইঙ্গিত দেন—আলোচনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি মুদ্রার পতন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও টানা বিক্ষোভ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বকে বৈধতার বড় সংকটের মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক ও সাইবার পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Post a Comment