ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়, ফলে আলোচনা ঘিরে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আজই ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তিনি কোন সময় বা কোন প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছেন, তা পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। তার বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পাশাপাশি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না হয়, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু—লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, ইরান এখনও ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। দেশটি কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না বা চুক্তিতে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তানের কিছু সূত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তেহরান দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আগ্রহী হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার টেলিফোনে কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় নিয়ে এ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অনিশ্চয়তা এই যোগাযোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ অবরোধ, জাহাজ জব্দ এবং আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য আলোচনা বা চুক্তির পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে কঠোর হুমকি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার দিকে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।