 |
| এআই-নিয়ন্ত্রিত নতুন ব্যবস্থায় খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, বদলাচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া |
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, তবে এবার পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে দেশটি, যেখানে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়ম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে অভিবাসন ও নিয়োগ সংক্রান্ত সব খরচ কর্মীর পরিবর্তে নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। পাশাপাশি শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। শ্রমবাজার একবারে না খুলে ধাপে ধাপে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।
প্রাথমিকভাবে নির্মাণ খাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৮০০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী ধাপে অন্যান্য খাতেও বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বাড়ানো হবে।
সম্প্রতি পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই দেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও আধুনিক প্রক্রিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ শুরু করার বিষয়ে একমত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের নিয়োগ ব্যবস্থায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় এসব সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে মনিটর করা হবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। নির্মাণ, কৃষি ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট সংকট একদিনে সমাধান সম্ভব নয়, তবে সরকার ধাপে ধাপে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-নির্ভর নতুন নিয়োগ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বাংলাদেশি শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে কাজের সুযোগ পাবেন।