দেশীয় বাজারে আবার স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি, ভরিতে বেড়েছে এক হাজার টাকার বেশি

দেশের বাজারে আবার স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।

দেশের বাজারে আবার স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।

দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে আবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে গহনা কেনা কিংবা বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে আগ্রহী মানুষের জন্য ব্যয় আরও বেড়ে গেল।

বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দর আগামী রোববার থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের মূল্য বাড়ায় দেশের স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায়।

স্বর্ণের দামে এ পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন চলতি মাসের শুরুতেই বাজারে দাম কমানো হয়েছিল। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত আবার বদলে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা ও আমদানিকেন্দ্রিক নির্ভরতার কারণেও দামের ওঠানামা হচ্ছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে জুয়েলারি ব্যবসায়ী সবার ওপর। বিয়ের মৌসুম বা সামাজিক অনুষ্ঠানে গহনা কেনার পরিকল্পনা করা অনেকের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে যারা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন, তাদের সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

স্বর্ণের দাম সংক্রান্ত এমন নিয়মিত পরিবর্তন বাজার পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতারও একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজুসের ঘোষিত নতুন দামের দিকে নজর রাখা জরুরি।

Post a Comment