ইনস্টাগ্রামে ভয়াবহ তথ্য ফাঁস, ঝুঁকিতে প্রায় ২ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটা

ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য। ডার্ক ওয়েবে বিক্রির আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

instagram-data-breach-millions-users-at-risk

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবারও বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার পর অনেক ব্যবহারকারী হঠাৎ করেই ইনস্টাগ্রাম থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন ও ইমেইল পেতে শুরু করেছেন, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অ্যান্টিভাইরাস ও সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যালওয়্যারবাইটস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ফলে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের বেশ কিছু সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া ডেটার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীদের ইউজারনেম, ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা এবং আরও কিছু ব্যক্তিগত তথ্য।

ম্যালওয়্যারবাইটস জানিয়েছে, এসব তথ্য বর্তমানে ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা খুব সহজেই এই তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাঁস হওয়া ডেটা ব্যবহার করে ফিশিং আক্রমণ, ভুয়া মেসেজ পাঠানো, পরিচয় চুরি এমনকি সরাসরি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দখলের ঘটনাও ঘটতে পারে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, নিয়মিত ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণের সময় তারা এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি শনাক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রামের একটি এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংক্রান্ত দুর্বলতার কারণেই এই বিশাল পরিমাণ তথ্য বাইরে চলে যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তথ্য ফাঁসের প্রভাব হিসেবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যেই তাদের ইমেইলে ইনস্টাগ্রাম থেকে পাসওয়ার্ড রিসেট করার অনুরোধ পাচ্ছেন। এটি সাধারণত তখনই পাঠানো হয়, যখন কোনো অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্ত করা হয় বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দেখা দেয়।

এখন পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে অতীতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার তথ্য ফাঁস ও নিরাপত্তা দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে, যা কোম্পানিটির জন্য নতুন নয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা এবং সন্দেহজনক কোনো লিংক বা মেসেজে ক্লিক না করা।

এ ছাড়া মেটার ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ থেকে কোন কোন ডিভাইসে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে লগইন রয়েছে, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে অচেনা কোনো ডিভাইস বা লোকেশন দেখা গেলে দ্রুত সেগুলো থেকে লগআউট করা সম্ভব হবে।

এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, যা থেকে বাঁচতে আগাম সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


Post a Comment