কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শহর-গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারসাম্য আনতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিদ্যমান সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা এবং পূর্ববর্তী সময়ের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ফল এটি। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বাস্তবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াটে, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামীণ কৃষি কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজধানীতে সীমিত পরিসরে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষকদের জন্য সেচে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের সরবরাহ সচল রাখা হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ঢাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাস সরবরাহ। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বাড়ানো সম্ভব না হলেও আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া, একটি আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো চালু হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে এই সময়ের মধ্যে সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি হলেও শহরাঞ্চলে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।