দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও একটি বড় চালান আসছে। চলতি মাসের তৃতীয় দফায় প্রায় ৭ হাজার টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ইতোমধ্যে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাতের দিকে সরবরাহ প্রক্রিয়া চালু হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টার মধ্যেই তা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছাবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও দুটি চালান দেশে এসেছে। ১১ এপ্রিল প্রায় ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়। সব মিলিয়ে এই মাসে মোট চারটি চালানে প্রায় ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এসে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চ পর্যন্ত চারটি চালানের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এপ্রিলে নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় বছরের মোট আমদানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজেল পরে পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হয়।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারাবছর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইন প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগে খুলনা বা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহনে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পার্বতীপুরে পৌঁছানোর ফলে সময় ও খরচ—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে। প্রায় ১৩১.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রতিবছর ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির সুযোগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা অনুযায়ী আরও বাড়ানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইপলাইন প্রকল্প শুধু জ্বালানি সরবরাহ সহজ করেনি, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকেও আরও শক্তিশালী করেছে। দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।