রাজধানীর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের পর বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতের দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের পরিবর্তে সেখানে নীরবতা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে রয়েছে।
রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ভিসি চত্বর এবং রাজু ভাস্কর্য এলাকায় কোনো পক্ষের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। সাধারণত শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকা এসব এলাকা তখন অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
ক্যাম্পাসসংলগ্ন শাহবাগ থানা এলাকায়ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভেতরে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। বাইরে কয়েকজন সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন, যারা পরিস্থিতির আপডেট সংগ্রহ করছিলেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে, যা পরে সহিংস রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক, শিক্ষার্থী তানজিম, সাংবাদিক সিফাত, সাংবাদিক লিটন, সাংবাদিক খালিদসহ আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব পক্ষের সংযম ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।