VoiceBDNews

ভেড়ামারা ‘শিপ’, পত্নীতলা ‘স্পাউস’—সরকারি ফ্রিল্যান্সার ওয়েবসাইটে হাস্যকর ভুল

সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন উপজেলার নাম ইংরেজি অনুবাদে বিকৃতভাবে দেখানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ‘শিপ’

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকার সদ্য যে আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু করেছে, সেখানে গুরুতর ও বিব্রতকর তথ্যগত ভুল ধরা পড়েছে। ফ্রিল্যান্সার ডট গভ ডট বিডি নামের সরকারি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন জেলার উপজেলার নাম ভুল ইংরেজি অনুবাদে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দেখে হতবাক হয়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা।

ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার নাম দেখানো হয়েছে ‘গোল্ডেন’, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ‘শিপ’, নওগাঁর পত্নীতলা ‘স্পাউস’, পাবনার ভাঙ্গুড়া ‘ব্রোকেন’ এবং বেড়া উপজেলার নাম লেখা হয়েছে ‘ফেন্স’। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টু অ্যান্ড আ হাফ থাউজেন্ড’। এ ছাড়া জামালপুরের সরিষাবাড়ী ‘মাস্টার্ড’, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ‘বেম্বুখালি’সহ অন্তত ২১টি উপজেলার নাম এভাবে বিকৃতভাবে দেখা গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৯টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ ধরনের ভুল পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে পরিচয় যাচাই, ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি–বেসরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি এটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যার রক্ষণাবেক্ষণে থাকবেন আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা।

তবে উদ্বোধনের পরপরই ওয়েবসাইটে এমন ভুল তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে এক ফ্রিল্যান্সার লিখেছেন, ‘ভুলে ভরা ওয়েবসাইট।’ অনেকেই মন্তব্যে জানিয়েছেন, নিজেদের উপজেলার নাম খুঁজে না পেয়ে তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
freelancer-gov-bd-upazila-name-errors


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকাশনা মাধ্যম ‘মিডিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যদিও বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করা হয়। এত বড় একটি জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত সরকারি প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, এ ধরনের ত্রুটি ডিজিটাল সিস্টেমের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাঁর মতে, ওয়েবসাইটটির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই এসব ভুল ধরা পড়ত।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং দ্রুতই ভুলগুলো সংশোধন করা হবে।

About the Author

kawshik
Post By kawshik
Hey there! I'm the creator behind this content. I'm passionate about sharing useful insights and stories with my readers. If you enjoyed this post, feel free to explore more of my work!

Post a Comment